স্বাগতম :
আজ: সোমবার, মার্চ ৯, ২০১৫
শঙ্কামুক্ত নন হায়াৎ আইভী ডিএনসিসি উপনির্বাচন: ৩ মাসের জন্য স্থগিত বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদায় রদবদল অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে রদবদল নাখালপাড়ায় জঙ্গি অভিযান: নিহত ৩ দেশ কেন মাদক থেকে মুক্ত হতে পারছে না? মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নির্মল সেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত পুলিশ সপ্তাহ শুরু

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,এসবিডি নিউজ24 ডট কমঃ জয়ের জন্য তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১২ বলে ১৬ রান। আর বাংলাদেশের ২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালসহ গোটা বাংলাদেশ তখন উত্তেজনায় কাঁপছে। তবে কি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে বাংলাদেশ? নাকি অপেক্ষা বাড়বে? শত প্রশ্ন আর শঙ্কায় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের গায়ের প্রতিটা লোম তখন দাঁড়িয়ে গেছে! বোলিংয়ে এলেন রুবেল হোসেন। আর এসেই একি দেখালেন রুবেল! প্রথম ৩ বলেই দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন গতিময় এই পেসার। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসে নাম লেখাল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ১৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে (নকআউট পর্ব) ওঠার কীর্তি গড়লেন টাইগাররা। আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রহর গুনতে শুরু করলেন ইংলিশরা।

৯ মার্চ (সোমবার) বিশ্বকাপের ৩৩তম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের ৭ উইকেটে করা ২৭৫ রানের জবাবে ২৬০ রানে ইনিংস গুটিয়ে যায় ইংলিশদের। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন রুবেল। ইংলিশদের ২৭৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে অবশ্য বোলিংয়ের শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। ১৯.৫ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। তবে এরপর মুহূর্তেই ইংলিশদের ইনিংসের গতিপথ পরিবর্তন করে দেন রুবেল হোসেন। এক ওভারেই দুই ইয়ান, মানে ইয়ান বেল ও ইয়ান মরগানের উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের ভীষণ চাপে ফেলেন দেন রুবেল। বেলকে (৬৩) মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরানোর পর মরগানকে সাকিবের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর দ্রুতই জেমস টেলরকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ১৩২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ইংলিশরা তখন ধুঁকছিল। জস বাটলারকে নিয়ে জো রুট প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাদের ৩১ রানের জুটি ভাঙেন মাশরাফি। রুটকে (২৯) মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তিনি। তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮৬ বলে ১১৩ রান। সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওয়াকসকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান বাটলার। একসময় মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত কি তীরে এসে আবারও তরি ডুববে বাংলাদেশের! কারণ তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৬ বলে ৩৮ রান। তবে ইনিংসের ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে বাটলারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাসকিন। আর পরের বলেই ক্রিস জর্ডানকে রানআউটের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশের জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেন সাকিব।

এক পর্যায়ে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন পড়ে ১৫ বলে ২০ রান। আর তখনই তাসকিনের বলে ক্রিস ওয়াকসের তুলে মারা সহজ একটি ক্যাচ ছেড়ে দিলেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা তামিম। মুহূর্তেই ১৬ কোটি বাঙালির হৃদয় যেন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল! কিন্তু কে জানত, সে ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে অপেক্ষা করছেন রুবেল! শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। তবে ইনিংসের ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই ব্রডের স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন রুবেল। তার পরের বলটি জেমস অ্যান্ডারসন কোনোমতে ঠেকিয়ে দিলেন। তবে তৃতীয় বলটি আর পারলেন না। বুঝে ওঠার আগেই দারুণ এক ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন রুবেল। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ। আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আনন্দের জোয়ারে ভাসলেন। এমনটা হবেই না বা কেন? বাংলাদেশের ক্রিকেট-ইতিহাসের অন্যতম সেরা দিন যে এটাই!

প্রাসঙ্গিক সংবাদঃ

  • শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
  • উরুগুয়েকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়া
  • টি-২০ বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুললো শ্রীলংকা
  • বিরাট কোহলির অনবদ্য ব্যাটিংঃ ফাইনালে ভারত
  • ফাইনালে বাংলাদেশঃ জয়ের উচ্ছাস