স্বাগতম :
আজ: রবিবার, জানুয়ারী ১০, ২০১৬
ডিএনসিসি উপনির্বাচন: ৩ মাসের জন্য স্থগিত বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদায় রদবদল অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে রদবদল নাখালপাড়ায় জঙ্গি অভিযান: নিহত ৩ দেশ কেন মাদক থেকে মুক্ত হতে পারছে না? মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নির্মল সেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত পুলিশ সপ্তাহ শুরু শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

বিশেষ প্রতিনিধি,এসবিডি নিউজ24 ডট কমঃ ১০ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এ দিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ ১০ মাস পাকিস্তানে কারাবাস শেষে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন কোটি জনতার প্রিয় এই নেতা। লাখো বাঙালি উৎসবের আনন্দে এদিন প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য গভীর রাতে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ওই রাতেই তারা নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায়। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে বলা হয়। তা না হলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু বাঙালির অধিকার ছাড়া তিনি কোনো কিছু মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। গ্রেফতারের পর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের নির্জন-অন্ধকার কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিচার। এতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি ও প্রহসনের বিচার বন্ধ করতে প্রবল বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে স্বৈরাচার পাকিস্তানি সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার সদ্য ভূমিষ্ঠ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে বিশেষ বিমানে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। এ সময় অস্থায়ী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাসহ লাখো মানুষ বিমানবন্দরে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেন প্রিয় এই নেতাকে। বঙ্গবন্ধুও তার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।

দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে নানা কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রবিবার সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এ ছাড়াও ১১ জানুয়ারি সোমবার বেলা আড়াইটার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রাসঙ্গিক সংবাদঃ

  • জাতীয় শোক দিবস
  • ৩ এপ্রিল: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস
  • বাংলার মাটিতে প্রত্যেকটি রায় কার্যকর করবঃ প্রধানমন্ত্রী
  • ১৭ এপ্রিলঃ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস
  • বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় যারা অত্যাচার নির্যাতন করেছিল আমরা তাদেরও বিচার করবঃ প্রধানমন্ত্রী