স্বাগতম :
আজ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৬, ২০১৭
সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ: নিহত ২ শেয়ার কেনাবেচায় নতুন নির্দেশনা অভিন্ন ভিসা পদ্ধতির সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গির্জায় হামলা দুদক ফাঁদে ওয়াকফের সহকারী প্রশাসক মৃত মানবীর অবয়ব (ফাতেমা হক মুক্তা) পটুয়াখালীতে দেশের সর্ব বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র শীতের সবজিতে ঘাটতির আশঙ্কা সংবিধানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস

ছন্দময় জয়ে মাশরাফি’র বিদায়

এসবিডি নিউজ24 ডট কম,ডেস্ক: দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ তে শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারালো বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ১৭৬ রান সংগ্রহ করে। ১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪০ রানেই প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে খুইয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। এরপর কাপুগেদেরা আর তুসারা প্রেরেরা ৫৮ রানের পার্টনারশিপে দলকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ৯৮ রানের মাথায় সাকিবের বলে তুসারা প্রেরেরাকে স্ট্যাম্পিং করে মুসফিক। এরপর ১১৯ রানে প্রসন্নাকে ফিরান মাশরাফি। আর দলীয় ১২৩ রানে কাপুগেদেরা ফিরে গেলে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর মুস্তাফিজ আর সাইফুদ্দিনের উইকেটে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।


এদিকে জয় দিয়ে মাশরাফিকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ দল। সেই কথা রাখলো বাংলার দামাল ছেলেরা। জয় দিয়েই টি-২০ থেকে বিদায় জানালো নড়াইল এক্সপ্রেসকে। এতে টেস্ট আর ওয়ানডের মতো টি-২০ তেও ড্র হলো সিরিজ।


কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেঢিয়ামে টস জিতে ভুল করেননি টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ব্যাট হাতে মাঠে নামা দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তের সম্মান জানাতে ভুল করেননি। লঙ্কান বোলারদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে।


দারুন ছন্দে ব্যাট করছিলেন। মালিঙ্গা-কুলাসেকেরাদের পাড়া-মহল্লার বোলার বানিয়ে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওপেনার সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস। ৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে পেয়েছিলেন ইমরুল কায়েসকে। তামিমের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠেছিলেন প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। পাওয়ার প্লে-তে এ জুঁটি ৬৮ রান জমা করেন স্কোর বোর্ডে। কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশ শিবিরে। ইনিংসের সপ্তম ও নিজের প্রথম ওভার করতে আসা গুনারত্নে থামিয়ে দেন সৌম্য সরকারকে।


ঐ ওভারের তৃতীয় বলে গুনারত্নের রিটার্ন ক্যাচে পরিনত হওয়ার আগে ১৭ বলে ৩৪ রানের সুপারসনিক গতির একটি ইনিংস উপহার দেন দলকে। নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ৭১ রানে। এ জুটিতে ফাঁটল ধরার আগেই নতুন এক রেকর্ডের মালিক হয়ে গেছেন সৌম্য ও ইমরুল। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে আগের করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল ৬৩ রান। সেটা ছাড়িয়ে গেছেন আজ। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামের জহুর আহম্মেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঐ রেকর্ডের মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। তিন বছর পর এসে সেই রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছেন সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস জুটি।


ইমরুল কায়েসের সাথে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু সৌম্যর বিদায়ের পর খুব বেশী সময় স্থায়ী হতে পারেননি আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসও। মাত্র ৭ রান পরেই করুন বিদায় নিতে হয় তাকে। প্রসন্নর প্রথম ওভারে সিঙ্গেল রান নিতে গিয়ে রান আউটের ফাঁদে পড়েন ইমরুল কায়েস। সাজঘরে ফেরার আগে নিজের নামের পাশে জমা করেছিলেন ৩৬ রান। ২৬ বলে চারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।


এরপর মাঠে নামা সাকিব আল হাসানকে সাথে নিয়ে লঙ্কান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে উঠেন হার্ডহিটার সাব্বির রহমান। তাদের ব্যাটে রানের খড়া দেখা যায়নি একটি মুহুর্তের জন্যও। রানের চাকা সচল রেখেছেন প্রতিটা সময়। সাকিবের সাথে জুটি গড়ে দলের স্কোর বোর্ডে ৪৬ রান জমা করার পর সাব্বিরকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয়। সঞ্জয় আঘাত হানেন টাইগার শিবিরে। বিদায় নেয়ার আগে ১৮ বলের খরচায় এক ছয়ে ১৯ রান জমা করেছিলেন নিজের নামের পাশে।


সাকিবের ব্যাটের ধার দেখেছেন আজ লঙ্কানরা। নিজের মেজাজ না হারালেও ব্যাটের মেজাজটা ছিল আকাশে। মোসাদ্দেকের সাথে মাত্র ১৫ রানের জুটি গড়েছেন তিনি। অর্ধশত থেকে ১৩ রান দূরে থাকতে প্রসন্নর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরেছেন সাকিব। ৩১ বলে চারটি বাউন্ডারি দিয়ে এ রান করেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। সাকিবের বিদায়ের পর জ্বলে উঠার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। মালিঙ্গার তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা ও পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। কিন্তু পরের ওভারের প্রথম বলেই মাঠ ছাড়তে হয় মোসাদ্দেককে। ১৭ রানে এ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন থিসারা পেরেরা।


শেষ দিকে মুশফিক ঝড়ো গতির (৫ বলে ১৫) রানের একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন দলকে। মালিঙ্গার শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর মাহমুদুল্লার সাথে ব্যাট করার জন্য মাঠে নেমেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু নিজের বিদায়ী ম্যাচটাতে ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি। পরের বলেই ফিরে যান টাইগার কাপ্তান। হেটট্রিকের সম্ভাবনা জেগে উঠে লঙ্কান এ পেসারের সামনে। আর সে সম্ভাবনা বাস্তবে পরিনত করেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে।


শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে জমা হয়েছে ৬ উইকেটে মাত্র ৪০ রান। মালিঙ্গা তিন উইকেট নিয়েছেন ৩৪ রানের খরচায়।

প্রাসঙ্গিক সংবাদঃ

  • নখ কামড়ানো উত্তেজনায় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরাজয়
  • বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়
  • ৭৯ রানে বাংলাদেশের জয়
  • জয় দিয়ে বাংলাদেশের সূচনা
  • ঢাকার জয় এবং মাশরাফির প্রমাণ