স্বাগতম :
আজ: মঙ্গলবার, জুন ২৭, ২০১৭
সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ: নিহত ২ শেয়ার কেনাবেচায় নতুন নির্দেশনা অভিন্ন ভিসা পদ্ধতির সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গির্জায় হামলা দুদক ফাঁদে ওয়াকফের সহকারী প্রশাসক মৃত মানবীর অবয়ব (ফাতেমা হক মুক্তা) পটুয়াখালীতে দেশের সর্ব বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র শীতের সবজিতে ঘাটতির আশঙ্কা সংবিধানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস

ঈদ: শান্তি ও সৌহার্দ্যের সম্পৃক্ততা

শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ:

মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। বাঙালি মুসলিম জীবনে ঈদ-উল-ফিতর অন্যরকম একদিন। সবচেয়ে বড় আনন্দময় উৎসব জমে উঠে এই ঈদকে ঘিরেই। স্বভাবতই এই ঈদকে কেন্দ্র করে আয়োজনের ব্যাপ্তিও বেশি। ধনী দরিদ্র সবাই ঈদ-উল-ফিতরকে উপভোগ করতে সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে নানাবিধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এই ঈদে মা, বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সবার জন্যেই নতুন পোশাক, জামা-জুতা কেনা বড় এক অনুসঙ্গ।


আনন্দঘন ও সৌহার্দ পরিবেশে সবাই ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনায় ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ম মতে, ‘ফিতর’ মানে রোজা ভাঙা। ইফতার শব্দটিও ‘ফিতর’ থেকে এসেছে। ঈদুল ফিতর মানে রোজা ভাঙার ঈদ।


রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় কষ্ট ও ক্লান্তির পর স্বাভাবিকভাবেই সুখ ভোগের বিষয়টি এসে যায়। ঈদুল ফিতর রোজাদারদের সেই স্বভাবসমেত সুখ উপহার দেয়। প্রত্যেকেই সাধ ও সাধ্যের মধ্যে জামা-কাপড়সহ পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে চেষ্টা করেন। ঈদ মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। ধনী-গরীব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে রাজা-প্রজা এক কাতারে শামিল করিয়ে দেয় পবিত্র ঈদ।


২৬ জুন (সোমবার) বাংলাদেশে উৎযাপন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রমজানের শুরুর দিনটি নগরবাসীর কেটেছে রোদ বৃষ্টির লুকোচুরিতে। সেই সাথে ছিলো চিরচেনা যানজট। এর পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় চলা উন্নয়ন কাজ, আর সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি ভুগিয়েছে বেশ। সিয়াম সাধনার মাসে বিড়ম্বনাহীন জীবনের প্রত্যাশায় গুঁড়েবালি রাজধানীবাসীর। মৌচাকে এখন আর মধু মেলে না, মেলে শুধুই বিড়ম্বনা। ফ্লাইওভার আর রাস্তা সংস্কারের কারণে রাজধানীর অন্যতম এই পথে যাতায়াতকারীদের পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় ভোগান্তি। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই! যন্ত্রনার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় যেকোন সীমা।


বিগত দু বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এমন চিত্র। মৌচাকের এই সড়কটিতে আছে বেশ কিছু বানিজ্যিক স্থাপনা ও বিপনীবিতান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমন অবস্থায় যেমন হচ্ছে ভোগান্তি, তেমনি কাজের ধীরগতি বাড়াচ্ছে দীর্ঘসূত্রীতা। অনেকটা একই চিত্র রাজধানীর কারওয়ানবাজার থেকে এফডিসি সড়কে। কাদা-পানি-আর যানজটে নাকাল। অপরিকল্পিত নগরায়ণ আর বিকল্প সড়কের অপ্রতুলতাকেই এমন ভোগান্তির কারণ বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।


ঈদে আত্মীয়স্বজনসহ প্রতিবেশী এবং গরিব-দুঃখী মানুষকে জামাকাপড় উপহার দেয়াসহ তাদের পাশে দাঁড়ানোটাও আমাদের ধর্মীয় চেতনার বড় অংশ। একই সাথে ঈদ-উল-ফিতরের দিনে প্রতিটি বাড়িতেই থাকে ভালো রান্নাবান্নার বাহারি রকমারি আয়োজন। প্রতিটি মানুষই এসব আয়োজন সবার সাথে ভাগ করে উপভোগ করে থাকেন। এই ঈদের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো-শহরের মানুষের শেকড়ে ফেরা এবং পরিবার পরিজনের সাথে মিলেমিশে ঈদ আনন্দ উপভোগ করা।


প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে কয়েক দিনে যারা নগরী ছেড়েছেন, তারা এখন গ্রামের বাড়ি পাড়া-পড়শির সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত। আর নানা কারণে যারা ঢাকা ছাড়তে পারেনি, তারা ছুটেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ গন্তব্যে। গত কয়েকদিন ভিড় কিছুটা কম থাকলেও, ঈদযাত্রার একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজধানীর বাস-লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনগুলোতে ঘরমুখী মানুষের ঢল দেখা গেছে।


বাঙালি মুসলিম জীবনে ঈদ উৎসব উপভোগেও আমরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। বিশ্বায়ন আর মিডিয়ার কারণে ঈদ উৎসব এখন আর সেই সনাতনি ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আর এ কারণে শুধু শহুরে জীবন নয়, গ্রামীণ জীবনের ঈদ উৎসবেও যুক্ত হয়েছে নানা পরিবর্তন আর বর্ণিলতা। তবে সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়, গ্রামের ঈদ সবসময়ই বৈচিত্র্য ও বর্ণময়। সেই তুলনায় শহুরে ঈদ কিছুটা হলেও নাগরিক চরিত্রের মধ্যেই ডুবে থাকে।


গ্রামের ঈদে দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। একসময় গ্রামে ঈদের দিন নামাজ শেষে নানা ধরনের খেলাধুলোর আয়োজন করা হতো যেখানে গ্রামের নবীন-প্রবীণ সবাই অংশ নিতো। রশি টানা, দৌড় প্রতিযোগিতা, নৌকাবাইচ, নবীন আর প্রবীণের মাঝে ফুটবল খেলা, ভলিবল খেলা, হাডুডু খেলা, লাঠি খেলা এরকম নানাবিধ খেলাধূলার আয়োজন থাকতো। একইসাথে থাকতো নাটক, পালাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বা বিচিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন। সেই ধারাবাহিকতায় এখনও আয়োজনের কোনো ঘাটতি নেই। তবে আগের তুলনায় আয়োজনে আরও বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার আয়োজনে আধুনিকতা যুক্ত হওয়ার কারণে পুরনো অনেক কিছুই আবার বিযুক্তও হয়েছে। ঈদের পুরনো সংস্কৃতির অনেক কিছুই মিঁইয়ে গেছে তথ্য প্রযুক্তির কারণে।


ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপন। আর মোবারক শব্দের অর্থ কল্যাণময়। ঈদ হোক আনন্দময়। সকলের জন্যে। হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম অহংকারসহ সব অন্যায় ও পাপাচার মুছে দিয়ে নতুন করে সুখী পবিত্র জীবনযাপন শুরু করার প্রত্যাশায় সকলের প্রতি আমাদের রইলো ঈদ শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।


[শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ: প্রধান সম্পাদক,এসবিডি নিউজ24 ডট কম।।]

jsb.shuvo@gmail.com

প্রাসঙ্গিক সংবাদঃ

  • বাড়ছে ঈদের সরকারি ছুটি
  • ঈদ: শান্তি ও সৌহার্দ্যের সম্পৃক্ততা
  • পবিত্র ঈদুল আজহা আজ
  • চাঁদ দেখা গেছেঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর মঙ্গলবার
  • দেশের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ পথ শিশুর জীবনে ঈদের দিনটি কাটে অন্যের মুখের পানে চেয়ে, তাদের করুণার পাত্র হয়ে!