স্বাগতম :
আজ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭
সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ: নিহত ২ শেয়ার কেনাবেচায় নতুন নির্দেশনা অভিন্ন ভিসা পদ্ধতির সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গির্জায় হামলা দুদক ফাঁদে ওয়াকফের সহকারী প্রশাসক মৃত মানবীর অবয়ব (ফাতেমা হক মুক্তা) পটুয়াখালীতে দেশের সর্ব বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র শীতের সবজিতে ঘাটতির আশঙ্কা সংবিধানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস

রোহিঙ্গা প্রবেশ অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, এসবিডি নিউজ24 ডট কম: মিয়ানমার থেকে এখনো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেছেন, ‘২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ৪ লাখ ২৪ হাজার। তবে প্রতিনিয়ত তারা স্থান পরিবর্তন করায় ও বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করায় তাদের এই সংখ্যা কম বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের।’ ২১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।


নিবন্ধন, পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণসহ রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ত্রাণমন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহকামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গার জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার তাদের সবাইকে একটি স্থানে ‘বাসস্থানের’ ব্যবস্থা করছে। কক্সাবাজারের কুতুবপালং এলাকায় তাদের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য ১৪ হাজার শেড নির্মাণ করা হচ্ছে।’ বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সাবাজারে ১৪টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। তা ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।

২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আসা সব রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে ৫ হাজার ৫৭৫ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করা হয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি, আগামী দুই মাসের মধ্যে ৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া বিদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন চাল, ২০ মেট্রিক টন আটাসহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী এসেছে। এসব ত্রাণ তাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী চার মাস ডব্লিইউএফপি ৪ লাখ রোহিঙ্গা পরিবারকে খাবার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’


তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ১০০ টিউবওয়েল ও ৫০০ অস্থায়ী টয়লেট বসানো হচ্ছে। তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট সুপেয় পানি সরবরাহ করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে দেশি-বিদেশি ত্রাণ রোহিঙ্গাদের কাছে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করা যায়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সব রোহিঙ্গাদের নির্মাণাধীন ক্যাম্পে নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৮টি স্থানে প্রতিদিন এক বেলা রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবা দিতে ৩৬টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ জন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ৮ জন উপ-সচিবকে শরণার্থী কার্যক্রমের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে।’


ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে বর্তমান সরকার। তাদের জন্য যখন যা করা দরকার আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি জানান, ২৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগর পথে বাংলাদেশে আসছে। নারী-শিশু ও অসহায় অনুপ্রবেশকারীদের করুণ চিত্র বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। অসহায় এসব মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা মানবিক সংকট তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছি। বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও এমন মানবিক সংকটে রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী কুতুপালং ক্যাম্পের পাশে নতুন ক্যাম্প করে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে থেকে সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান মোফাজ্জল হোসেন মায়া।’ তবে সংকটের দ্রুত সমাধান ও মিয়ানমার তার নাগরিকদের ফেরত নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ত্রাণমন্ত্রীর।


বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘পুরোটা শেষ করতে ২ মাস লাগবে। ১০টি পয়েন্টে নিবন্ধন কাজ হলেও বৃহস্পতিবার থেকে তা বাড়ানো হয়েছে। এখন ৩০টি পয়েন্টে নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে।’

কোন প্রাসঙ্গিক সংবাদ নেইঃ