স্বাগতম :
আজ: রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১২
ডিএনসিসি উপনির্বাচন: ৩ মাসের জন্য স্থগিত বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদায় রদবদল অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে রদবদল নাখালপাড়ায় জঙ্গি অভিযান: নিহত ৩ দেশ কেন মাদক থেকে মুক্ত হতে পারছে না? মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নির্মল সেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত পুলিশ সপ্তাহ শুরু শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

একজন সাংবাদিকের জীবনের প্রাপ্তি শুধুই যন্ত্রণা আর বিড়ম্বনা!

ছোট বেলার স্বপ্ন ছিলো পাইলট হয়ে আকাশ ছোঁয়ার। সেটা সম্ভব হয়নি। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তানরা পাইলট হতে পারে না। তাছাড়াও বাবার এ ব্যাপারে আপত্তি ছিলো। তাঁর স্বপ্ন ছিলো নিজের পুত্রকে ডাক্তার বানাবেন। বাবার স্বপ্ন পূরণের বাসনায় লিপ্ত হলাম। মেডিকেলে ভর্তি হলাম। সেটাও হলো না। বাবা মারা গেলেন বড্ড অসময়ে। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলাম আমি। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের ব্রেইন স্ট্রোক করলো। চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় টিসি নিয়ে আসার যথেষ্ট চেষ্টা করলাম। হলো না। কারো সহযোগিতা পেলাম না। যাদের দেখতাম,বাবার পেছন পেছন ঘুরতে,তাদের চেহারা মুহূর্তেই যেন বদলে গেলো। বুঝলাম,এটাই বাস্তবতা। ঢাবি’র রেজিষ্টার্ড স্যারের পরামর্শে ভর্তি হলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজী সাহিত্য নিলাম এক বন্ধুর পরামর্শে। আর সাংবাদিকতায় নাম লেখালাম জীবিকার তাগিদে।

 

পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করতে লাগলাম। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক নিতান্তই নগন্য। তারপরও মানুষ আশা করে। মাষ্টার্স শেষ হলো। কোথাও ভালো চাকরি জুটলো না। অর্ধ দশকের সাংবাদিকতা জীবনে প্রাপ্তির খাতায় ভালো কিছু যোগ হয়নি। প্রথমে দাদা/আপনি, কয়েকদিন পর আপনি থেকে তুমি,এরপর নাম ধরে ডাকা। ক্ষেত্র বিশেষ তুই। আমার অপরাধ কী? সামান্য সম্মানও কী আমি পেতে পারি না?

 

কথাগুলো লিখছি বিষন্ন বেদনা বোধ থেকে। আজ সাগর ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদটি পেয়ে বুকটায় খুব কষ্ট হচ্ছে। ক’দিন আগেও তার সাথে আমার কথা হয়েছে। মাছরাঙ্গা টিভিতে আমার চাকরির জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন। হয়েও যেতো। সাগর ভাই বলেছিলেন, “আপনি যাদের খুব আপন ভাবছেন,তারাই আপনার চাকরি হতে দিচ্ছে না”। এমন কথা অবিশ্বাসের কারণ নেই। সাংবাদিকতা পেশাটা-ই এখন একটা নোংরা নেশা। যারা এই নেশার ছোবলে আক্রান্ত, তারা না পারছেন এটা ছাড়তে,না পারছেন ভালো ভাবে টিকে থাকতে।

 

সাগর ভাই আর রুনি আপাকে নিয়ে শোকবাণীর বহর দেখলে সহজেই বোঝা যায়,জাতি হিসেবে আমরা কতোটা ভন্ড। জীবিত অবস্থায় সাগর ভাই কী যথার্থ সম্মান পেয়েছেন? আমি অন্তত বলবো ‘না’। আমরা (রিপোর্টাররা) মানুষের জন্য কাজ করি,মানুষের পক্ষে কাজ করি,কিন্তু আমাদের বিপদে কাউকে পাশে পাই না। এটাই সত্যি,এটাই বাস্তব। যেই বাস্তবতা চিরকাল সহ্য করতে হবে সাগর ভাইয়ের শিশু পুত্র “মেঘ” কে। এতিম হয়ে এই পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা যে কতোটা কঠিন,সেটা আমার চেয়ে ভালো খুব কম মানুষই জানেন। একজন সাংবাদিকের জীবনের প্রাপ্তি শুধুই যন্ত্রণা আর বিড়ম্বনা।

শুভাশিস ব্যানার্জিঃ সাংবাদিক।

প্রাসঙ্গিক সংবাদঃ

  • বগুড়ার ধুনটে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত : ১ আহত: ১৫