শাহবাগ চত্বর, ফেসবুক এবং সাংবাদিকতা

শাহবাগ চত্বর, ফেসবুক এবং সাংবাদিকতা

শুভাশিস ব্যানার্জি শুভঃ

============================================================================

এক.

১৯৯৫ সাল। হুমায়ুন আহমেদ রচিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের শেষ পর্ব। সারাদেশ গর্জে উঠেছে। নাটকের মূল চরিত্র ‘বাকের ভাই’কে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হবে। এর বিপক্ষে সারা দেশের মানুষ। সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কভার স্টোরী। ‘বাকের ভাইয়ের কি ফাঁসি হবে?’ একজন লেখকের কতোটা প্রতিভা থাকলে নাটকের মাধ্যমে মানুষের বিবেকবোধকে এভাবে জাগিয়ে তুলতে পারেন! লেখক ঐ নাটকের মাধ্যমে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন। টাকা আর প্রভাব থাকলে এই স্বাধীন দেশেও যে অসম্ভব বলে কিছু নেই,সেটা তিনি নিপুণভাবে দর্শকদের কাছে তুলে ধরেছেন। দেশ স্বাধীন হলেও বিশেষ মহলের কাছে কতিপয় মানুষ আজও পরাধীন। সেই নাটক মনে এতোটাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো যে,কোন বাধা না মেনে জীবনের প্রথম মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম। আমাদের শ্লোগান ছিলো “বাকের ভাইয়ের ফাঁসি চাই না”। লেখক দর্শকদের এই অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিয়ে মিথ্যের জয় দেখিয়েছেন। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়। জয় হয় মিথ্যের। আমরা দুঃখ পেয়েছি। কেদেছি। তারপরও…! ১৯৯৫ সালের পর ২০১৩ সালে কোন মিছিলে আমি অংশ নিয়েছি। এটাও মিথ্যের বিপক্ষে মিছিল। সত্যের জয়ের লক্ষ্যে মিছিল। পার্থক্য শুধু একটা। ওটা ছিলো নাটকের কল্প কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্রের ফাঁসি যেন না হয় সেটা নিয়ে মিছিল,আর এটা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত রাজাকারের যেন ফাঁসি নিশ্চিত হয় তা নিয়ে মিছিল। আমাদের জীবনের বহু ক্ষেত্রে মিথ্যের জয়ের ধারা এখনও অটুট। শঙ্কা,এই ক্ষেত্রেও সত্যের কাছে মিথ্যেকে পরাজিত হতে না হয়!

দুই.

রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে আন্দোলন চলছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও এই আন্দোলনের ছোয়া লেগেছে। সবাই যেন এই ইস্যুতে একমত। রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সকলের মনে। কেউ আর মিথ্যে অপশক্তির জয় দেখতে চান না। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত শাহবাগ। বাংলাদেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে শাহবাগে সংহতি প্রকাশ করছে। বাহ! এ যেন এক নতুন অধ্যায়। এ যেন নতুন এক স্বাধীনতার সংগ্রাম। এ যেন সমগ্র বাঙ্গালির চাহিদা…

তিন.
শাহবাগের এই আন্দোলনকে একেকজন (বিশেষত কুচক্রী মহল) ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করবেন,সেটা স্বাভাবিক। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই আন্দোলনকে নিজেদের আয়ত্বে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বা করছেন সেটাও স্বাভাবিক। আবার এই আন্দোলন যে অস্বাভাবিক জনসমর্থন পেয়েছে সেটার গুরুত্ব সর্বাধিক। এই আন্দোলনটি মূলত শুরু হয়েছিলো অপ্রত্যাশিতভাবে। রাজাকার কাদের মোল্লা’র ফাঁসি’র দাবীতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরবর্ত্তীতে যোগ হয়, সকল যুদ্ধাপরাদীদের ফাঁসি’র দাবি। এটা অযৌক্তিক নয়। নতুন প্রজন্ম রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। এই লক্ষ্যে সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি’র দাবী তোলা সংগত যুক্তি রয়েছে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইসতেহারে পরিস্কার উল্লেখ ছিলো,যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। ক্ষমতার ৪টি বছর পেরিয়ে গেলেও এই কাজটি সরকার করতে পারেনি। কেন পারেনি,সেটা একটা বিরাট রহস্য। এই কাজটি একদিনে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সরকারের উচিৎ ছিলো প্রথম থেকে-ই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হওয়া। তাদের সুষ্ঠু তৎপরতার অভাবে আজ এই অবস্থা। এই অবস্থা কী দিনের পর দিন চলতেই থাকবে? সরকারের অসাড়তা দেখে অবস্থা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে সেটা অনুমান করা দুরূহ। কি ভাবছে তারা,সেটি আমাদের কাছে আদৌ পরিস্কার নয়। তবে প্রশাসনের দুর্বলতা আমাদের কাছে পরিস্কার। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে জামায়াতের হরতালে শিবির কর্মীদের তৎপরতা শুধু হতাশ নয় যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জামায়াত-শিবিরের হাতে পদে পদে অস্ত্রধারী পুলিশ প্রহারের শিকার হচ্ছে,লাঞ্চিত হচ্ছে,এটা কেমন কথা? র‌্যাব-পুলিশ কি কোন কারণে জামায়াত-শিবিরকে ভয় পাচ্ছে? না কি দীর্ঘদিন খাচায় বন্দি পাখি যেমন উড়তে পারে না,শত্রুর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও র‌্যাব-পুলিশের তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে? শাহবাগ চত্বরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার লাশ পাওয়া যাচ্ছে মতিঝিলে। স্বয়ং ওসি শাহবাগ আহত হয়েছেন গত শুক্রবার। এগুলো কিসের ঈঙ্গিত? ডিআরইউ চত্বরে পুলিশের পোশাকে কারা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে? কেন সাংবাদিকদের টার্গেট করা হলো? এমন শত শত ‘কেন’ এর উত্তর আমি খুঁজে পাই না।

চার.

শাহবাগের আন্দোলনে প্রথম পর্যায়ে দাবী ছিলো একটি। যতো দিন যাচ্ছে, দাবীর পরিমাণ বাড়ছে। এই বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই কারণে উদ্বেগজনক যে,তারা যে সব দাবী তুলছে সেই দাবী গুলো অনেকাংশে অযৌতিক। টিভি চ্যানেল বা পত্রিকা বর্জনের দাবী অনেকেই গ্রহণ করবে না। যেভাবে তারা রাজনৈতিক নেতাদের মতো ‘আল্টিমেটাম’ দেয়া শুরু করেছে,তাতে করে ধরেই নেয়া যায় আন্দোলনের একটি চাবি কোন রাজনৈতিক দলের হাতে চলে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে,তাদের দেয়া ‘আল্টিমেটাম’ কোন গুরুত্ব পাচ্ছে না। নৃশংসভাবে খুন হওয়া রাজীব হায়দারের হত্যাকারীদের আজও খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। অথচ, ‘থাবা বাবা’ ছদ্মনামধারী রাজীবকে জামায়াত-শিবির ঠিকই খুঁজে বের করছে এবং বর্বরভাবে খুন করেছে। তাহলে,দৃশ্যত কারা অধিক শক্তিশালী? পুলিশ বাহিনী না কি শিবির বাহিনী? এই খুনের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করাটা খুব জরুরী। যারা আস্তিক-নাস্তিক এর ধোয়া তুলে পরিবেশ ঘোলাটে করতে চাইছে,তাদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য খুনিদের গ্রেফতার অতি জরুরী।

শুরু থেকে বলা হয়েছিলো,এই আন্দোলনে কোন নেতা থাকবে না। এখানে সবাই নেতা। ক’দিন যেতে না যেতেই সেখানে নেতা তৈরী হয়ে গেলো। প্রধানমন্ত্রী ১৯জনের নামের একটি তালিকা করে তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেন। আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম। এই ১৯ জনের তালিকা কে বা কারা ঠিক করলো? কেন ঠিক করলো? শাহবাগে রাত/দিন এক করে,খেয়ে না খেয়ে যারা শ্রম দিচ্ছে অপরীসীম পরিশ্রম করছে,রাতের ঘুম হারাম করেছে,তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? এই আন্দোলনে কী তাদের কোন ভূমিকা নেই? বৈষম্য এভাবেই সৃষ্টি হয়। এভাবেই সৃষ্টি হয় একে অন্যের প্রতি হিংসা। হিংসা থেকে প্রতিহিংসা। আন্দোলনে ফাটল ধরাতে এই কৌশল নেয়া হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে,এই কৌশলটি কে নিয়েছে? কে বা কারা ঘুড়ির নাটাই নিজের হাতে নিয়ে নায়ক হতে চাইছে? না কি তাদের নায়ক বানানোর লোভ দেখিয়ে,আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?

পাঁচ.
‘ফেসবুক’ এর কথা না বললে,অনেক কিছুই যেন না বলা থেকে যাবে। প্রতিদিন ফেসবুকের বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস দেখছি আর অবাক হচ্ছি। ক্ষেত্র বিশেষ কিছুটা অপরাধ বোধেও ভুগছি। কারণ,এইসব আইডি’র ধারকদের আমি আমার বন্ধুর আসনে বসিয়ে রেখেছিলাম দীর্ঘদিন। এখন তাদের মুখোশ খসে পড়ছে। কেউ কেউ আমার সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আমি কেমন সাংবাদিক,কিসের সাংবাদিক প্রভৃতি। যারা এসব প্রশ্ন তুলছেন,তাদের অধিকাংশ জনের প্রোফাইলে-ই নিজের পেশা হিসেবে সাংবাদিক (ক্ষেত্র বিশেষ কর্মস্থলসহ) লেখা। তারা সরাসরি ওয়ালে গালাগালি করছেন। একটু খোঁজ বা তাদের ওয়াল পর্যবেক্ষণ করলেই গালা-গালি’র কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ হলো,তারা প্রচন্ডভাবে জামায়াত সমর্থক। একজন জামায়াত সমর্থক অপর একজন ‘হিন্দু’কে কতোটা আপন ভাবেন,কতোটা বন্ধু ভাবেন,সেটা এখন আমার কাছে পরিস্কার। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও এই কয়দিনে আমি আবিস্কার করেছি,আমার পাপ আমার জন্মে। আমি এমন একটি সম্প্রদায়ের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছি,যেই সম্প্রদায়কে এই দেশের বহু মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন। আমি নিশ্চিত এই অপরাধে যোগ্যতা থাকা সত্বেও আমার কোথাও চাকরি হচ্ছে না। সহসা হবে,সেই আশাও বাদ দিয়েছি। এই চরম সত্যটি আমার কাছে চিরকাল অজানা থেকে যেতো যদি শাহবাগের এই আন্দোলন না হতো। শাহবাগের এই আন্দোলনে শামিল হয়ে এবং ফেসবুকের কল্যাণে আমি প্রতি মুহুর্তে নিজেকে নতুনভাবে আবিস্কার করতে পারছি। মানুষের মনের অন্ধকার এবং কলুষিত জায়গাটি আমি দেখতে পারছি। এই পাওয়াকে আমি মন থেকে স্বাগত জানাতে পারিনি। পারবোও না। আমার কাছে ধর্ম মানে বিশ্বাস। বন্ধুত্ব আমার কাছে বিরাট এক ব্যাপার। সম্প্রতি আমি জেনেছি,সম-বয়সী না হলে বন্ধু হওয়া যায় না। বয়স কম হলেই তাকে ‘তুমি/তুই’ বলে সম্বোধন করতে হবে,ইত্যাদি। ফেসবুকীয় কিছু ‘বন্ধু’ আমাকে এই ধরণের জ্ঞান দিয়েছে! এসব মানতে আমি নারাজ। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক আমাকে অন্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন নিজের বন্ধু হিসেবে তেমনি কলেজ পড়ুয়া বহু শিক্ষার্থী আমাকে নিজের বন্ধু ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। উভয় ক্ষেত্রে-ই আমাকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা হয়। যে সম্পর্কে শ্রদ্ধা থাকে না,সেটা টিকতে পারে না। আমার স্থির বিশ্বাসে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য।

ছয়.
একুশের বই মেলায় অগ্নিকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। এতোদিন গার্মেন্টস বা শিল্প-কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতো। ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনা ঘটেই চলছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে সাথে তদন্ত কমিটি হয়,যা আমার জানা মতে একটিও আলোর মুখ দেখেনি। নিরীহ মানুষ মারা যায়। লাশ প্রতি লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি করেন মালিকরা। পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর,সেটিও আর দেয়া হয় না। ভাগ্যক্রমে বই মেলায় আগুন লেগেছে গভীর রাতে। কেউ অন্তত মারা যাননি। তবে এফবিসিসিআইয়ের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। এতোদিন তারা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের কিনে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এখন কী তারা কবি/সাহিত্যিকদেরও কিনে নেয়ার চেষ্টা করছে? বাংলা একাডেমীর বইমেলা,সমগ্র বাঙ্গালীর প্রাণের মেলা। এই মেলায় আগুন দেয়ার অর্থ,মানুষের প্রাণে আগুন দেয়া। দেশ স্বাধীনের প্রাক্কালে বুদ্ধিজীবী নিধন করে,দেশটিকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছিলো। এখন আবার কী সেই ধরণের কিছু ঘটতে যাচ্ছে?

সাত.

গত কয়েকদিনে আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। মানুষের বহুরূপিতা আমাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছে। এই মুহুর্তে আমার গায়ে বেশ জ্বর। কিছুদিন আগেও একজন প্রবাসী কলামিষ্ট আমাকে প্রশ্ন করেছেন,আন্দোলন কী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের মতো রূপ নিচ্ছে? আমি উত্তর দিতে পারিনি। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে কোন কিছুই আমি বুঝতে পারছি না। প্রজন্ম ৭১ এর যারা কর্ণধার,যারা সকল সরকারের আমলে সুবিধা ভোগ করেছেন,তাদের কাউকে এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে দেখিনি। কেন? টিভি’র টক শো গুলোতে যারা চিৎকার করেন,তারা কেন কোন সঠিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন না? বুদ্ধিজীবীরা যদি এই তরুণদের পাশে এসে না দাঁড়ান,তাহলে এই যুদ্ধে জয় লাভ করা আদৌ কি সম্ভব? অপরদিকে,অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপর হয়েছেন। দ্রব্যমূল্য গত কয়েকদিনে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিশ্চুপ সরকার,বিপাকে সাধারণ মানুষ। আমি এর আগে লিখেছিলাম, “কোনভাবে যদি এই আন্দোলন বিফলে যায়,তাহলে সেটা হবে সমগ্র জাতির জন্য ব্যর্থতা। আমাদের বিবেক বোধকে জাগ্রত করে অপশক্তিকে রুখতে হবে। দিনের পর দিন এভাবে আন্দোলন চলতে পারে না। একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিতে হবে। সার্বিক প্রচেষ্টাই হতে পারে সফলতার চাবিকাঠি”। আজ ঐ একই কথার পুনরাবৃত্তি করছি। পাশাপাশি আরও বলতে চাই, আমাদের মতো সস্তা সাংবাদিকদের হুমকী দেয়া সহজ, মেরে ফেলা আরও সহজ। এর প্রধান কারণ,আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ঐক্য ঠিক না রাখতে পারলে,বিপর্যয় নিশ্চিত। সুতরাং ঐক্য বজায় রেখে সর্তকতার সাথে কাজ লড়াই করা বুদ্ধিমানের কাজ। আমি বলবো,যে প্রধান দাবী নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো,সেই দাবীকে আরও জোরালো করতে হবে। ‘সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি’র দাবী নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ‘বহুব্রীহি’ নাটকের মাধ্যমে “তুই রাজাকার” বলার যে রেওয়াজ চালু করেছিলেন,আজ শাহবাগ চত্বর,ফেসবুকসহ সর্বত্র রাজাকারদের “তুই রাজাকার” বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। নব্য রাজাকারদের জন্যও ঐ একটা কথাই প্রযোজ্য। আমরা চাই,স্বাধীনদেশ থেকে সকল ‘রাজাকার’ নিপাত যাক। শাহবাগের এই আন্দোলন সফল হোক।

শুভাশিস ব্যানার্জি শুভঃ সম্পাদক,এসবিডি নিউজ24 ডট কম।।

প্রধান সম্পাদক