স্বাগতম :
আজ: বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১২
উবারের নতুন সেবা ’উবারহায়ার’ ইতালি সফরে প্রধানমন্ত্রী অরকা অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি পরলোকে কথাসাহিত্যিক শওকত আলী জাবেদ পাটোয়ারী পরবর্তী আইজিপি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’: নিহত ১ এমপি পুত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নয়াদিল্লির একটি কারখানায় আগুন পদ্মা সেতু: আশানুরূপ অগ্রগতি শঙ্কামুক্ত নন হায়াৎ আইভী

সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এসবিডি নিউজ২৪ ডট কম, ঢাকা: চলতি মাসেই বাড়ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদহার। সরকার ইতিমধ্যে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংক আমানতের সুদহার বেড়ে যাওয়া, সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া এবং সার্বিকভাবে এর সুদহার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সুদহার কতটুকু বাড়ানো যায় তার জন্য সুপারিশ করতে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কিম ভেদে সুদহার সুনির্দিষ্টভাবে কতটুকু বাড়বে তা জানা যায়নি। তবে সুদহার গড়ে কমপক্ষে ১ শতাংশ বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সবদিক বিবেচনায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার কতটুকু বাড়ানো যায় তার প্রস্তাব করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতরের প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটি ইতিমধ্যে একটি বৈঠকও করেছে। চলতি মাসে আরও বৈঠক করে তাদের সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা হবে।

বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ৩ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদহার রয়েছে ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার কিছুটা বাড়ায়। সরকারের অনুমান ছিল, চলতি অর্থবছরে গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হবে। তবে সর্বশেষ হিসাবে গেল ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপর রয়েছে। এতে করে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে সীমিত থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ব্যাংকে মেয়াদি আমানতের সুদহারও গত কয়েক মাসে অনেক বেড়ে গেছে। তারল্য সংকট থাকায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এখন ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদহারে মেয়াদি আমানত নেয়া হচ্ছে। সরকার তার বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক থেকে নেয়ার পাশাপাশি সরকার সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত বিদেশি সাহায্য ছাড়ের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একই অবস্থা সঞ্চয়পত্র বিক্রির। ফলে সরকারকে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ নিতে হচ্ছে। এর পরিণতিতে ইতিমধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) নিট বিদেশি সাহায্য ছাড়ের পরিমাণ মাত্র ৩৯ কোটি ডলার যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬০ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি মাত্র ৩৩৪ কোটি টাকা যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। একক মাস হিসাবে ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। এর মানে, মোট বিক্রির চেয়ে আগের সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বেশি। এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার কোটি টাকা।

কোন প্রাসঙ্গিক সংবাদ নেইঃ